সোমবার, ০৮ Jun ২০২৬, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪>> গোটা সপ্তাহের কর্মব্যস্ত জীবনের পর ছুটির দিনগুলো যেন একটু স্বস্তি নিয়ে আসে সবার জীবনে। ছুটির দিনে মানুষ বিভিন্নভাবে উদযাপন করে। পরিবার নিয়ে ঘোরাফেরা, ভ্রমণ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া। তবে ছুটির দিনে বেশিরভাগ মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম সিনেমা।
এই সিনেমাটি ক্রিস্টোফার ম্যাকান্ডলেসের জীবনের সত্য ঘটনার উপর তৈরি করা। ১৯৯২ সালে ক্রিস্টোফার (এমিল হার্শ) কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে, নিজের জমানো ২৫ হাজার ডলার দাতব্য কাজে দিয়ে আরণ্যকের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়েন। ধনী পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও লাভজনক কোনো পেশায় না গিয়ে এই পথ বেছে নেন সিনেমার প্রধান চরিত্র।
টিভি কিংবা বড় পর্দায়, সিনেমা বা সিরিজ দেখা এখন মানুষের নিত্যদিনের অংশ হয়ে উঠছে। আর ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় এখন সবকিছুই মানুষের হাতের মুঠোয়। আগামীকাল শুক্রবার। ছুটির দিনে ঘরে বসেই দেখে নিতে পারেন, এমন ৬টি চলচ্চিত্র নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।
নিজেকে খুঁজে পাবার এই ভ্রমণে একটি ব্যাকপ্যাকই তাঁর সঙ্গী। আমেরিকার পথে চার মাস ঘুরে অবশেষে আলাস্কাতে পৌঁছান ক্রিস্টোফার। আলাস্কার উদ্দেশ্যে বের হওয়া ক্রিস্টোফার কি নিজেকে খুঁজে পাবে?
শন পেনের লেখা এবং পরিচালনায় ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটি সমালোচকদেরও অনেক পছন্দ হয়েছিলো। মুল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এমিল হার্শ।
যারা ঘুরতে ভালোবাসেন এবং সিনেমাও পছন্দ করেন, তাদের জন্যই রইলো দারুণ ৬টি সিনেমার খোঁজ।
কিংবদন্তি বৈপ্লবিক নেতা চে গেভারার যৌবনকালের সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে স্প্যানিশ ভাষার এই সিনেমাটি।
চে গেভারার নিজের লিখা বই ‘দ্য মোটর সাইকেল ডায়েরিজ’ থেকেই সিনেমাটি নির্মিত। চে এবং তার বন্ধু আলবার্তো গ্রানাদো একটি মোটর সাইকেলে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন পুরো দক্ষিণ আমেরিকা পাড়ি দেয়ার উদ্দেশ্যে। মেডিকেল কলেজের শেষ সেমিস্টারের আগের ছুটিতে দুই বন্ধু মোটর সাইকেলে চড়ে ব্রাজিল থেকে পেরু পাড়ি দেন। পথে দুই বন্ধুর সাথে অনেক ঘটনা ঘটে। তারা অনেক অসমতা আর গরীবদের দুর্দশা দেখেন পুরো মহাদেশ জুড়ে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে গরীবদের অসমতা দেখে চে’র জীবন বদলে যায়। সামাজিক সমস্যা আর এই অসমতার কারণে তরুণ মেডিকেল ছাত্র চে’র ভেতরে বিপ্লবের চারা জন্মায়।
ওয়াল্টার সালেসের পরিচালনায় সিনেমাটিতে দক্ষিণ আমেরিকার অনেকগুলো দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেখা পাওয়া গেছে। এতে অভিনয় করেছেন গায়েল গার্সিয়া বার্নাল, রড্রিগো এবং মিয়া মায়েস্ট্রো।
এরপর আসা যাক ‘কন-তিকি’ আলাপে। এটি অনতিক্রম্য মহাসাগর পাড়ি দেবার চোয়ালবদ্ধ সঙ্কল্পের গল্প। সিনেমাটিতে একদল পাগলাটে এক্সপ্লোরারের বিস্ময়কর কাহিনী দেখা যায়। একমাত্র সম্বল কাঠের ভেলায় ভর করে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় চার হাজার তিন শত মাইল পথ পাড়ি দেয় তারা।
সিনেমার নাম দেখেই বোঝা যায়, এই সিনেমার ব্যাপ্তি ভারতে। বাবা মারা যাওয়ার পর এক বছর তিন ভাইয়ের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিলো না। তিন ভাইয়ের একজন ফ্রান্সিস (ওয়েন উইলসন) মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় পাওয়া আঘাত থেকে সেরে ওঠার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে পিটার (অ্যাড্রিয়েন ব্রডি) আর জ্যাকরা (জেসন) আছেন পারিবারিক সমস্যা নিয়ে। শেষমেশ তিন ভাই মিলে দেখা করে ঠিক করেন পুরো ভারত ঘোরার ভ্রমণে বের হবেন। নিজেদের মধ্যে বন্ধন অটুট রাখার চিন্তা করে তিন ভাই মিলে উঠে পড়েন বিলাসবহুল এক ট্রেনে। এই সিনেমাতে ভারতের প্রাকৃতিক দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে নিশ্চিত। ওয়েস অ্যান্ডারসনের পরিচালনায় এই সিনেমাতে অভিনয় করেছেন ওয়েন উইলসন, অ্যাড্রিয়েন ব্রডি এবং জেসন শোয়ার্টজম্যান।
রূপকথার মতো শোনালেও কন-তিকি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত একটি স্ক্যান্ডেনেভিয়ান সিনেমা। রোনিং ও স্যান্ডবার্গের পরিচালনায় মুল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন হাজেন, বাসমো ও স্কার্সগার্ড।
এবার ‘গুডবাই বার্লিন’ সিনেমার প্রসঙ্গ। এই সিনেমার আরেকটি নাম (জার্মান) আছে। তার উচ্চারণ জটিলতার কারণে এখানে ইংরেজি নামটিই উল্লেখ করা হলো। গাড়ি চুরি করে ভিন্ন রকম মানসিকতার দুই কিশোর শহরে, পল্লীতে, সবুজ প্রান্তরে দিন রাত টোটো করে ঘুরে বেড়ায়। বাড়ি ফিরে কোনো এক বিশৃঙ্খল বিন্দুতে জীবনের মানে আচমকা উপলব্ধি করে তারা। মন ছুঁয়ে যাবার মতো ছবি।
মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচক উভয় মহলেই দারুণ প্রশংসিত হয়েছে সিনেমাটি। মুল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ট্রিস্টান গোবেল, এনিয়া ওয়েন্ডেল এবং জাস্টিনা হাম্ফ।
ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত কার্টার চেম্বার্স এবং এডওয়ার্ড কোল জীবনে প্রথমবারের মতো হাসপাতালে এসে পরিচিত হয়। ওয়ার্ডে থাকা কালীন সময়ে কার্টার মৃত্যুর পূর্বে তাঁর পূরণীয় ইচ্ছাগুলোকে লিপিবদ্ধ করেন। কিন্তু যখন জানতে পারলেন তাঁর হাতে সময় আছে আর মাত্র এক বছর তখন কাগজটা ছুঁড়ে ফেলে দেন। পরের দিন সকালে এডওয়ার্ড তা কুঁড়িয়ে পায়। এডওয়ার্ড কার্টারকে প্ররোচনা দিয়ে শুরু করে ইচ্ছে পূরণের তাগিদে বিশ্ব ভ্রমণ। মুভিটির পরিচালক রব রেইনের। মুল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মরগান ফ্রিম্যান ও জ্যাক নিকোলসন। সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত চলচ্চিত্রটি।